আপনার আদরের বাচ্চাটা যখন প্রথম আধো আধো কথা বলা শুরু করেছিল, তখন সেঅনেক কথাই ভালভাবে আপনাকে বোঝাতে পারত না। ঠিক ভাবে কথা না বলতে পারলেতাদের চাওয়া পাওয়া বোঝানার জন্য একটাই সুযোগ আছে আর তাহল হাত-পা নেড়েবোঝান। বাচ্চার এই হাত নাড়া নাড়িই হয়ত কখন আপনার মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াতেপারে। চিন্তা করবেন না, এটি আপনার বাচ্চার দোষ না। আপনি যদি পাশের বাসার মায়েরকাছে শোনেন তার বাচ্চা সারা দিন কি করে, তবে উত্তর আসবে হয়ত “সারা দিন বসেআমার হাড় আর মাংস আলাদা করে”।
এই আচরণ পৃথিবীর অনেক বেবিরই ছিল, আছে এবং থাকবে।
যাইহোক, আমরা এই আর্টিকেলে জানার চেষ্টা করব কি ভাবে আমরা বাচ্চাদের এই ধরনেরআগ্রাসন কমাতে পারি।
অনেক সময় আপনার বাচ্চার রেগে যাওয়ার কারণ কিন্তু ইচ্ছাকৃত না, সে চেষ্টা করেছেআপনাকে ভাল ভাবে বোঝানোর জন্য। কিন্তু, কথা বলে ভালভাবে বোঝানোর উপায় নাইবলে হয়ত হাত পা চালানো শুরু করছে। হাতের কাছের কাঁচের গ্লাসটা আপনি বুঝে উঠারআগেই ভেঙ্গে ফেলছে।
আসলে রেগে তো আপনিও যান, কিন্তু রেগে গিয়ে তো আর গ্লাস ভাঙ্গেন না। আপনি যেকাজটা করেন তা হল রাগ কমানোর চেষ্টা। কারণ, আপনি খুব ভাল ভাবেই বোঝেন আমিযদি স্মার্ট ফোনটা দেয়ালে ছুড়ে মেরে ভেঙ্গে ফেলি তাহলে সমস্যা সমাধান হবে না।আপনার বাচ্চাকেও ঠিক এই ব্যাপারটা বোঝানোর চেষ্টা করুন।
আসুন তাহলে দেখা যাক কী উপায়ে আপনি আপনার বেবির জেদ বা রাগ নিয়ন্ত্রণে আনতেপারেন।
এই আচরণ পৃথিবীর অনেক বেবিরই ছিল, আছে এবং থাকবে।
যাইহোক, আমরা এই আর্টিকেলে জানার চেষ্টা করব কি ভাবে আমরা বাচ্চাদের এই ধরনেরআগ্রাসন কমাতে পারি।
অনেক সময় আপনার বাচ্চার রেগে যাওয়ার কারণ কিন্তু ইচ্ছাকৃত না, সে চেষ্টা করেছেআপনাকে ভাল ভাবে বোঝানোর জন্য। কিন্তু, কথা বলে ভালভাবে বোঝানোর উপায় নাইবলে হয়ত হাত পা চালানো শুরু করছে। হাতের কাছের কাঁচের গ্লাসটা আপনি বুঝে উঠারআগেই ভেঙ্গে ফেলছে।
আসলে রেগে তো আপনিও যান, কিন্তু রেগে গিয়ে তো আর গ্লাস ভাঙ্গেন না। আপনি যেকাজটা করেন তা হল রাগ কমানোর চেষ্টা। কারণ, আপনি খুব ভাল ভাবেই বোঝেন আমিযদি স্মার্ট ফোনটা দেয়ালে ছুড়ে মেরে ভেঙ্গে ফেলি তাহলে সমস্যা সমাধান হবে না।আপনার বাচ্চাকেও ঠিক এই ব্যাপারটা বোঝানোর চেষ্টা করুন।
আসুন তাহলে দেখা যাক কী উপায়ে আপনি আপনার বেবির জেদ বা রাগ নিয়ন্ত্রণে আনতেপারেন।
১) কি হয়েছিল বাবু?
মনেকরেন, আপনার বাচ্চা একটু আগেই ৩য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ করে এখন একটু শান্ত। আরসাথে সাথে আপনি যেয়ে জেরা করা শুরু করে দিলেন। আপনাকে যদি কেউ ঐ সময় এসেজেরা করা শুরু করত, আপনার মাথা ঠিক থাকত? আমি নিশ্চিত থাকত না। তাহলে,আপনার বাচ্চার কাছ থেকে কি ভাবে আশা করেন, সে অনেক শান্ত গলায় আপনার প্রশ্নেরউত্তর দিবে। তার রাগ আবার শুরু হয়ে যাবে এবং নিশ্চিত এইবার হবে ৪ নাম্বার বিশ্বযুদ্ধ।আপনার কাজ হবে এখন মাথা ঠাণ্ডা করে ঠোঁটের কোনায় হাসি নিয়ে প্রশ্ন করা “বল, বাবুতোমার এত রাগের কারণ কি? তোমার কি মনে হয় আমি তোমার কোন কথা শুনি না?”
আপনি যখন কোন বয়স্ক মানুষকে বোঝানর চেষ্টা করেন, ঠিক ঐ ভাবে চেষ্টা করুন তাকেবোঝানোর। তবে, অবশ্যই তার মানসিক পরিস্থিতি বুঝে তারপর। আর তার কোনটা ভাললাগে, কোনটা লাগে না এই বিষয় গুলো আপনি পৃথিবির যে কোন মানুষের থেকে ভালজানেন।
চেষ্টা করুন বাচ্চার সাথে কথা বলার সময় আপনার রাগ, কথা যেন দুই দিকে থাকে।আপনার কথা বলার সাথে যদি রাগ প্রকাশ পায়, তাহলে বাচ্চাকে কি ভাবে শান্ত রাখবেন?
২) মাথা ঠাণ্ডা বাবুঃ
আপনার ছোট বাচ্চাটার রাগ ঠিক নিউক্লিয়ার বোমার মত, একটু অসাবধান হলেই সবভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। তাই সব সময় চেষ্টা করুন, সবসময় আদর করে নাড়াচাড়া করার।যদি কখন আপনার বাচ্চা অন্য কাউকে আঘাত করে, কামড়ে ধরে তাহলে প্রথমে তাকেশান্ত করুন, আর শান্ত হওয়ার পর প্রশ্ন করুন “কেউ যদি তোমাকে কামড়ে দিত তাহলেতোমার কি ভাল লাগত?” আরো একটু ভাল ভাবে বোঝানর জন্য চেষ্টা করুন “মনেকর,কেউ তোমার বড় ভাইকে যদি ঠিক ঐ ভাবে আঘাত করে, তাহলে তোমার বড় ভাইওকান্নাকাটি করবে, তখন তোমার খারাপ লাগবে না?”
৩) রাগ রাগ খেলাঃ
আপনার বাচ্চাকে যদি দেখেন কোন ভাবেই বোঝান সম্ভাব হচ্ছে না। তখন, রাগ রাগ খেলাশেখাতে পারেন। আপনার বাচ্চাকে প্রশ্ন করুন “বাবু, তোমার রেগে গেলে কি করতে ভাললাগে”। তার লিস্ট শোনার পর এই বার আপনার পালা। আপনিও একটা লিস্ট দিন যে গুলরেগে গেলে আপনি করে থাকেন। এইবার আপনার বাবুর সাথে খেলা করুন কিন্তু চরিত্রবদলে নিয়ে। মানে, আপনি রেগে গেলে যা করেন ঐ গুলো আপনার বাচ্চাকে করতে বলুন,আর আপনারটা আপনি নিজে। কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করুন দেখবেন আপনার বাবুআপনাকে কপি করা শুরু করছে। নিশ্চয় আপনার লিস্টে রেগে গেলে তাকে কষ্ট দেয়া এইনীতি থাকবে না।
৪) লক্ষ্মী বাবুঃ
চেষ্টা করেন আপনার বাবুর সাথে সব সময় কথা বলার। আপনার বাবু যে সারা দিন ঘরমাথায় তুলে রাখে তাতো আর না। মাঝে মাঝে সে ভাল কাজও করে। যখন, কোন ভালকাজ করে তাকে অবশ্যই প্রশংসা করুন। ও যদি অন্য কারোর সাথে শেয়ার করে, তা সেখাবার হউক আর খেলনা হউক, তার প্রশংসা করুন। আপনি ফোনে কথা বলছেন তখনহঠাৎ করে আপনার পাশে চিৎকার শুরু করল, আপনি হাত দিয়ে ইশারা করলেন, চুপথাকতে। সাথে সাথে চুপ হয়ে গেল, অবশ্যই কথা বলা শেষ হওয়ার পর “বাহ!, আমারবাবুতো একদম লক্ষ্মী হয়ে গেছে।” আপনার কাছে যদি এর থেকে ভাল শব্দ জানা থাকেসেই গুলো ব্যবহার করুন।
৫) এসো ভাবি
আপনার বাবু কে শান্ত থাকা শেখাতে পারেন। এই জন্য তাকে বলুন “যখন তুমি রেগে যাবেসাথে সাথে চোখ বুঝে দীর্ঘ শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করো, আর ভাবতে থাক তোমার প্রিয় খাবারেস্বাদ কেমন?”
৬) সমান সমান
মাঝে মাঝে আপনার বাবুকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তার কোন কাজে আপনিও কষ্টপেতে পারেন। মনে করেন, আপনার পাশের বাসার বাবুটা আপনার বাবুকে গাধা বলেডাকে। আর বলার সাথে সাথে আপনার বাবু তাকে খামচানো শুরু করে। এখন আর পাশেরবাবু আর গাধা বলে না কিন্তু আপনার বাবু তাকে দেখলেই খামচি দিতে যায়। তখন, আপনিতাকে বোঝান তুমি যদি এই খামচানো বন্ধ না কর, তাহলে কিন্তু আমি তোমার সাথে কথাবলা বন্ধ করে দিব অথবা এই ধরনের কিছু একটা। যাতে করে ও বুঝতে পারে যে তার খারাপকাজে আপনারও খারাপ লাগে।
৭) ভায়োলেন্ট গেইম, ভিডিও, টিভি সিরিজ বন্ধ করুন
আপনার বাচ্চা স্পাইডারম্যানের ফ্যান হয়ে গেছে কিন্তু ঐ সিরিজ গুলো দেখে দেখে।সুতরাং, বেশি বেশি যদি মারামারির গেম খেলে অথবা ঐ ধরনের চ্যানেল গুলো বেশিদেখতে থাকে তাহলে সে চেষ্টা করবে ঐ ভাবেই বিহেভ করতে। এখন চেষ্টা করুন সমস্যারমূলটাকে উপড়ে ফেলতে, বন্ধ করুন মারামারিকে উৎসাহিত করে এমন গেইম, টিভিসিরিজ ইত্যাদি। বাচ্চাকে অভ্যস্ত করুন বাচ্চাদের বিভিন্ন লার্নিং গেইম অথবা টিভি শো/সিরিজে।
৮) প্রশ্রয় না দেয়া
আপনার আদরের বাবু আজ পাশের বাসার বেবি অথবা স্কুলের ফ্রেন্ডকে খামচি দিয়েছে,আর আপনি ভাবলেন অবুঝ বাচ্চা কিছু বোঝে না। পরের দিন এই বাচ্চা দেখা যাবে খেলাকরার পুতুল দিয়ে আঘাত করে অন্য বাচ্চার মাথা ফাটিয়ে দিচ্ছে, তখনো কি বলবেন অবুঝকিছু বোঝেনা। এই ঘটনার জন্য কিন্তু আপনিই দায়ী। প্রথম দিন যদি তাকে বোঝাতেপারতেন এই কাজটা খারাপ, আপনার পছন্দ না। তাহলে, পরের দিন আর ঐ ঘটনা ঘটতনা। সুতরাং, প্রথম দিনেই সাবধান।
৯) চিৎকার করে বাচ্চাকে থামাবেন না
মনে করুন হঠাৎ হৈ চৈ শুরু করেছে আপনার আদরের বাবুটা। এবার আপনি আসলেনথামানোর জন্য। কিন্তু এসে আপনিও চিৎকার করা শুরু করলেন। পরে দেখা গেল,আপনার চিৎকার শুনে বাবু আগের থেকেও আরো বেশি জোরে চিৎকার করা শুরুকরেছে। কিন্তু, এটা তো হওয়ার কথা ছিলনা। আপনি তো এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্যএসেছিলেন।
১০) আপনার বাচ্চাকে কে আপনিই জেদী বানাচ্ছেন?
আপনি কোন বাসার কেউ অথবা কাজের মেয়ের ওপর রেগে গিয়ে চিৎকারকরলেন। অথবা রাগের প্রকাশ হিসেবে কোন কিছু ছুড়ে মারলেন। একটু পরে আপনিঠিকি শান্ত হয়ে গেলেন, কিন্তু আপনার আদরের বাবু কিন্তু একটা হাতে কলমে শিক্ষাপেয়ে গেছে। যেখানে শিক্ষক হলেন আপনি নিজেই। আর শিক্ষাটা হল “মাও রেগে যায় এবংসেও রাগের প্রকাশ করে, সুতরাং এটা খুব সাধারণ একটা ব্যাপার। এটা নিয়ে বেশি চিন্তিতহওয়ার কোন কারণ নেই”।
সুতরাং, আগে নিজে বন্ধ করেন, তারপর বাচ্চাকে বন্ধ করতে বলেন।
বোনাস টিপসঃ আপনার নিজের জন্য
আর্টিকেল পড়া শেষ, এখন হাতের কাছে যদি ফোন থাকে তাহলে আপনার মাকে একটাকল দিন আর প্রশ্ন করুন “আমি কি ছোট বেলায় তোমাকে অনেক বেশি যন্ত্রণা দিয়েছি?”
উত্তর মায়ের হাসি মাখা উত্তর আসবে হয়ত “নাহ, তুইত অনেক শান্ত ছিলি। পাশের বাসারবাচ্চারা কত জ্বালাত তাদের মায়েদের। কিন্তু, তুই অনেক শান্তশিষ্টই ছিলি”
বিশ্বাস করেন আর নাই করেন, আপনার বাচ্চা যেমন আপনাকে অনেক যন্ত্রণা দেয়,আপনি তার থেকে কয়েক গুণ বেশি দিয়েছেন কম দেননি এটা নিশ্চিত।
আপনার বাচ্চাকে মানুষ করার জন্য আপনি যেমন অনলাইনে পড়তে এসেছেন তারকিন্তু এমন কোন উপায় ছিল না। নিজে নিজেই বুঝে গেছে আপনাকে কিভাবে মানুষ করালাগবে।
এর জন্য যে বিষয়টা তিনি বেশি বেশি করতেন তাহল আপনার সাথে বেশি বেশি সময়কাটানো। আপনিও চেষ্টা করুন, আপনার বাচ্চার সাথে সাথে বেশি সময় কাটাতে।
আপনার বাচ্চার জন্য শুভ কামনা রইল।
আর আপনিও ভাল থাকবেন।
মনেকরেন, আপনার বাচ্চা একটু আগেই ৩য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ করে এখন একটু শান্ত। আরসাথে সাথে আপনি যেয়ে জেরা করা শুরু করে দিলেন। আপনাকে যদি কেউ ঐ সময় এসেজেরা করা শুরু করত, আপনার মাথা ঠিক থাকত? আমি নিশ্চিত থাকত না। তাহলে,আপনার বাচ্চার কাছ থেকে কি ভাবে আশা করেন, সে অনেক শান্ত গলায় আপনার প্রশ্নেরউত্তর দিবে। তার রাগ আবার শুরু হয়ে যাবে এবং নিশ্চিত এইবার হবে ৪ নাম্বার বিশ্বযুদ্ধ।আপনার কাজ হবে এখন মাথা ঠাণ্ডা করে ঠোঁটের কোনায় হাসি নিয়ে প্রশ্ন করা “বল, বাবুতোমার এত রাগের কারণ কি? তোমার কি মনে হয় আমি তোমার কোন কথা শুনি না?”
আপনি যখন কোন বয়স্ক মানুষকে বোঝানর চেষ্টা করেন, ঠিক ঐ ভাবে চেষ্টা করুন তাকেবোঝানোর। তবে, অবশ্যই তার মানসিক পরিস্থিতি বুঝে তারপর। আর তার কোনটা ভাললাগে, কোনটা লাগে না এই বিষয় গুলো আপনি পৃথিবির যে কোন মানুষের থেকে ভালজানেন।
চেষ্টা করুন বাচ্চার সাথে কথা বলার সময় আপনার রাগ, কথা যেন দুই দিকে থাকে।আপনার কথা বলার সাথে যদি রাগ প্রকাশ পায়, তাহলে বাচ্চাকে কি ভাবে শান্ত রাখবেন?
২) মাথা ঠাণ্ডা বাবুঃ
আপনার ছোট বাচ্চাটার রাগ ঠিক নিউক্লিয়ার বোমার মত, একটু অসাবধান হলেই সবভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। তাই সব সময় চেষ্টা করুন, সবসময় আদর করে নাড়াচাড়া করার।যদি কখন আপনার বাচ্চা অন্য কাউকে আঘাত করে, কামড়ে ধরে তাহলে প্রথমে তাকেশান্ত করুন, আর শান্ত হওয়ার পর প্রশ্ন করুন “কেউ যদি তোমাকে কামড়ে দিত তাহলেতোমার কি ভাল লাগত?” আরো একটু ভাল ভাবে বোঝানর জন্য চেষ্টা করুন “মনেকর,কেউ তোমার বড় ভাইকে যদি ঠিক ঐ ভাবে আঘাত করে, তাহলে তোমার বড় ভাইওকান্নাকাটি করবে, তখন তোমার খারাপ লাগবে না?”
৩) রাগ রাগ খেলাঃ
আপনার বাচ্চাকে যদি দেখেন কোন ভাবেই বোঝান সম্ভাব হচ্ছে না। তখন, রাগ রাগ খেলাশেখাতে পারেন। আপনার বাচ্চাকে প্রশ্ন করুন “বাবু, তোমার রেগে গেলে কি করতে ভাললাগে”। তার লিস্ট শোনার পর এই বার আপনার পালা। আপনিও একটা লিস্ট দিন যে গুলরেগে গেলে আপনি করে থাকেন। এইবার আপনার বাবুর সাথে খেলা করুন কিন্তু চরিত্রবদলে নিয়ে। মানে, আপনি রেগে গেলে যা করেন ঐ গুলো আপনার বাচ্চাকে করতে বলুন,আর আপনারটা আপনি নিজে। কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করুন দেখবেন আপনার বাবুআপনাকে কপি করা শুরু করছে। নিশ্চয় আপনার লিস্টে রেগে গেলে তাকে কষ্ট দেয়া এইনীতি থাকবে না।
৪) লক্ষ্মী বাবুঃ
চেষ্টা করেন আপনার বাবুর সাথে সব সময় কথা বলার। আপনার বাবু যে সারা দিন ঘরমাথায় তুলে রাখে তাতো আর না। মাঝে মাঝে সে ভাল কাজও করে। যখন, কোন ভালকাজ করে তাকে অবশ্যই প্রশংসা করুন। ও যদি অন্য কারোর সাথে শেয়ার করে, তা সেখাবার হউক আর খেলনা হউক, তার প্রশংসা করুন। আপনি ফোনে কথা বলছেন তখনহঠাৎ করে আপনার পাশে চিৎকার শুরু করল, আপনি হাত দিয়ে ইশারা করলেন, চুপথাকতে। সাথে সাথে চুপ হয়ে গেল, অবশ্যই কথা বলা শেষ হওয়ার পর “বাহ!, আমারবাবুতো একদম লক্ষ্মী হয়ে গেছে।” আপনার কাছে যদি এর থেকে ভাল শব্দ জানা থাকেসেই গুলো ব্যবহার করুন।
৫) এসো ভাবি
আপনার বাবু কে শান্ত থাকা শেখাতে পারেন। এই জন্য তাকে বলুন “যখন তুমি রেগে যাবেসাথে সাথে চোখ বুঝে দীর্ঘ শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করো, আর ভাবতে থাক তোমার প্রিয় খাবারেস্বাদ কেমন?”
৬) সমান সমান
মাঝে মাঝে আপনার বাবুকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তার কোন কাজে আপনিও কষ্টপেতে পারেন। মনে করেন, আপনার পাশের বাসার বাবুটা আপনার বাবুকে গাধা বলেডাকে। আর বলার সাথে সাথে আপনার বাবু তাকে খামচানো শুরু করে। এখন আর পাশেরবাবু আর গাধা বলে না কিন্তু আপনার বাবু তাকে দেখলেই খামচি দিতে যায়। তখন, আপনিতাকে বোঝান তুমি যদি এই খামচানো বন্ধ না কর, তাহলে কিন্তু আমি তোমার সাথে কথাবলা বন্ধ করে দিব অথবা এই ধরনের কিছু একটা। যাতে করে ও বুঝতে পারে যে তার খারাপকাজে আপনারও খারাপ লাগে।
৭) ভায়োলেন্ট গেইম, ভিডিও, টিভি সিরিজ বন্ধ করুন
আপনার বাচ্চা স্পাইডারম্যানের ফ্যান হয়ে গেছে কিন্তু ঐ সিরিজ গুলো দেখে দেখে।সুতরাং, বেশি বেশি যদি মারামারির গেম খেলে অথবা ঐ ধরনের চ্যানেল গুলো বেশিদেখতে থাকে তাহলে সে চেষ্টা করবে ঐ ভাবেই বিহেভ করতে। এখন চেষ্টা করুন সমস্যারমূলটাকে উপড়ে ফেলতে, বন্ধ করুন মারামারিকে উৎসাহিত করে এমন গেইম, টিভিসিরিজ ইত্যাদি। বাচ্চাকে অভ্যস্ত করুন বাচ্চাদের বিভিন্ন লার্নিং গেইম অথবা টিভি শো/সিরিজে।
৮) প্রশ্রয় না দেয়া
আপনার আদরের বাবু আজ পাশের বাসার বেবি অথবা স্কুলের ফ্রেন্ডকে খামচি দিয়েছে,আর আপনি ভাবলেন অবুঝ বাচ্চা কিছু বোঝে না। পরের দিন এই বাচ্চা দেখা যাবে খেলাকরার পুতুল দিয়ে আঘাত করে অন্য বাচ্চার মাথা ফাটিয়ে দিচ্ছে, তখনো কি বলবেন অবুঝকিছু বোঝেনা। এই ঘটনার জন্য কিন্তু আপনিই দায়ী। প্রথম দিন যদি তাকে বোঝাতেপারতেন এই কাজটা খারাপ, আপনার পছন্দ না। তাহলে, পরের দিন আর ঐ ঘটনা ঘটতনা। সুতরাং, প্রথম দিনেই সাবধান।
৯) চিৎকার করে বাচ্চাকে থামাবেন না
মনে করুন হঠাৎ হৈ চৈ শুরু করেছে আপনার আদরের বাবুটা। এবার আপনি আসলেনথামানোর জন্য। কিন্তু এসে আপনিও চিৎকার করা শুরু করলেন। পরে দেখা গেল,আপনার চিৎকার শুনে বাবু আগের থেকেও আরো বেশি জোরে চিৎকার করা শুরুকরেছে। কিন্তু, এটা তো হওয়ার কথা ছিলনা। আপনি তো এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্যএসেছিলেন।
১০) আপনার বাচ্চাকে কে আপনিই জেদী বানাচ্ছেন?
আপনি কোন বাসার কেউ অথবা কাজের মেয়ের ওপর রেগে গিয়ে চিৎকারকরলেন। অথবা রাগের প্রকাশ হিসেবে কোন কিছু ছুড়ে মারলেন। একটু পরে আপনিঠিকি শান্ত হয়ে গেলেন, কিন্তু আপনার আদরের বাবু কিন্তু একটা হাতে কলমে শিক্ষাপেয়ে গেছে। যেখানে শিক্ষক হলেন আপনি নিজেই। আর শিক্ষাটা হল “মাও রেগে যায় এবংসেও রাগের প্রকাশ করে, সুতরাং এটা খুব সাধারণ একটা ব্যাপার। এটা নিয়ে বেশি চিন্তিতহওয়ার কোন কারণ নেই”।
সুতরাং, আগে নিজে বন্ধ করেন, তারপর বাচ্চাকে বন্ধ করতে বলেন।
বোনাস টিপসঃ আপনার নিজের জন্য
আর্টিকেল পড়া শেষ, এখন হাতের কাছে যদি ফোন থাকে তাহলে আপনার মাকে একটাকল দিন আর প্রশ্ন করুন “আমি কি ছোট বেলায় তোমাকে অনেক বেশি যন্ত্রণা দিয়েছি?”
উত্তর মায়ের হাসি মাখা উত্তর আসবে হয়ত “নাহ, তুইত অনেক শান্ত ছিলি। পাশের বাসারবাচ্চারা কত জ্বালাত তাদের মায়েদের। কিন্তু, তুই অনেক শান্তশিষ্টই ছিলি”
বিশ্বাস করেন আর নাই করেন, আপনার বাচ্চা যেমন আপনাকে অনেক যন্ত্রণা দেয়,আপনি তার থেকে কয়েক গুণ বেশি দিয়েছেন কম দেননি এটা নিশ্চিত।
আপনার বাচ্চাকে মানুষ করার জন্য আপনি যেমন অনলাইনে পড়তে এসেছেন তারকিন্তু এমন কোন উপায় ছিল না। নিজে নিজেই বুঝে গেছে আপনাকে কিভাবে মানুষ করালাগবে।
এর জন্য যে বিষয়টা তিনি বেশি বেশি করতেন তাহল আপনার সাথে বেশি বেশি সময়কাটানো। আপনিও চেষ্টা করুন, আপনার বাচ্চার সাথে সাথে বেশি সময় কাটাতে।
আপনার বাচ্চার জন্য শুভ কামনা রইল।
আর আপনিও ভাল থাকবেন।



Post a Comment